নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি অবৈধ চায়না জাল তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যরাজীব সয়ারকাজী পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালান কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান।
অভিযানে আনুমানিক ৪১ লাখ টাকার চায়না জাল ও চারটি বিদ্যুচ্চালিত সেলাই মেশিন জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত চায়না জাল ও সেলাই মেশিনগুলো কিশোরগঞ্জ থানায় রাখা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যরাজীব সয়ারকাজী পাড়া এলাকার কালু মামুদের ছেলে খলিল ও জলিল নিজ বাড়িতে একটি অবৈধ চায়না জাল তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কারখানার মালিক পালিয়ে যান। পরে কারখানাটি থেকে আনুমানিক ৪১ লাখ টাকার চায়না জাল ও চারটি বিদ্যুচ্চালিত সেলাই মেশিন জব্দ করা হয়।
একই সময় কারখানাটির পাশে দুলু মিয়া নামের আরেকজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চায়না জাল জব্দ করা হয় এবং তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, জব্দকৃত অবৈধ চায়না জাল ও সেলাই মেশিনগুলো থানায় জমা রাখা আছে। জেলা বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান বলেন, একটি বাড়িতে কারখানা গড়ে তুলে অবৈধ চায়না জাল তৈরি করা হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৪১ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না জাল ও চারটি বিদ্যুচ্চালিত সেলাই মেশিন জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষায় অবৈধ জাল তৈরির এ কারখানার সন্ধান পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর এসব জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।