নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু হামলার শিকার হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড বাবুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড বাবু কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজারের রাস্তার সঙ্গে ১৫ শতাংশ, পুকুরের ২৫ শতাংশসহ মোট ৪০ শতাংশ জমি দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। জমিটির মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটি সম্প্রতি তদন্তকাজ সম্পন্ন করে।
আজ রোববার দুপুরে দখল করা ওই জমি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য ঘটনাস্থলে যান চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া এবং ভিডিও চিত্র ধারণের সময় তাঁর সঙ্গে ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলামও ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহের একপর্যায়ে চেয়ারম্যান গ্রেনেড বাবুর লোকজন চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু ও ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অপু মুখে আঘাত পান। হামলাকারীরা তাঁদের ক্যামেরা, ট্রাইপড ও লাইভ ডিভাইস মেশিন ছিনিয়ে নেয় এবং ক্যামেরার লেন্স ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে যান এবং হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন এবং দৈনিক আমার দেশের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা দোষীদের গ্রেপ্তারসহ শাস্তির দাবি করছি।’
ভুক্তভোগী আবু সাঈদ অপু বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্যামেরার লেন্স ভাঙচুর, পিটু ক্যামেরা, ট্রইপডসহ লাইভ ডিভাইস মেশিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী গ্রেনেড বাবু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি রংপুর ছিলাম। চ্যানেল ওয়ানের ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ছিলেন আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন। তারা বারবার আমার নামে অকথ্য ভাষায় কথা বললে আমার লোকজন তার প্রতিবাদ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক আহত হলে তিনি মামলা করবেন, কিন্তু তিনি বাদী না হয়ে কৌশলে আমাকে হেনস্তা করার জন্য প্রতিপক্ষের লোক দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন। অথচ আমার দুজন লোক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ অবস্থায় আমিও বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিককে হামলার ঘটনায় এজাহার পেয়েছি। মামলাপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’