নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি হাসপাতাল থেকে সাথী আক্তার (২৮) নামে এক রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে শহরের ডক্টরস হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাথী সৈয়দপুর পৌর মুন্সিপাড়া নিমবাগান এলাকার বাসিন্দা রায়হান ইসলাম সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে সাথীর স্বামী রায়হান ইসলাম পলাতক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে সাথীকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর কর্তব্যরত নার্সরা আগের চিকিৎসা অনুযায়ী স্যালাইন ও ওষুধ চালু রাখেন।
কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহিদা বেগম জানান, ভর্তির পর রোগীর স্বামী কিছু সময় অবস্থান করে নাশতা আনতে বের হয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এসে রোগীর সঙ্গে কথা বলে পুনরায় বাইরে চলে যান। এ সময় রোগী কক্ষে একাই ছিলেন।
তিনি আরও জানান, বেশ কিছুক্ষণ পর রোগীর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁর স্বামীর উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন তাঁরা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সাথী আক্তারকে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন তাহমিদ ইমাম জানান, বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা হাসপাতালে না আসায় পরবর্তীকালে সৈয়দপুর থানায় অবহিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ভর্তির পর কোনো রোগী যদি না জানিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। তাঁকে পালাতক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে কী রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং কী ধরনের চিকিৎসা চলছিল সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা আজকের পত্রিকাকে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।