নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহিদা আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় করা মামলায় ওই গৃহবধূর স্বামী মোনাইদ হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার বেলা ৩টার দিকে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার মোনাইদ হোসেন উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। আর নিহত সাহিদা আক্তার পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে।
সাহিদা মোনাইদের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সংসারে মোনাইদের চার বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেন সাহিদা। মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। এ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন সাহিদা। কিন্তু বিয়ের পর মোনাইদসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। তাঁকে যৌতুক হিসেবে ৬ লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন মোনাইদ। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই রাতে মারা যান সাহিদা।
১ এপ্রিল নিহত সাহিদার বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে স্বামী মোনাইদ, শ্বশুরসহ পরিবারের সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাহিদার বাবা শহীদ মিয়া বলেন, ‘মোনাইদ মাদক সেবন করে, জুয়া খেলে। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে সে বিয়ে করে। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করে। তাদের মারধর, গালাগাল, অপমান ও নির্যাতন সইতে না পরে আমার মেয়ে বিষ খেয়ে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।’
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার প্রধান আসামি মোনাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।