নেত্রকোনায় চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলাম (৩৬) নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর আমলি আদালতে হাজির হলে বিচারক এই আদেশ দেন।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম জেলা সদরের কয়ড়া গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক।
নজরুল ইসলামের দলীয় পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তবে কী ঘটনায় মামলা হয়েছিল, তা সঠিক জানি না। শুনেছি তাদের পারিবারিক ঝামেলা হয়েছিল।’
এই মামলায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল হেকিমসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী মো. রুবেল রানা (৩৯) জেলা সদরের কয়ড়া গ্রামের মো. আব্দুল হাসিমের ছেলে। তিনি নেত্রকোনায় বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা করছেন।
আদালতে দেওয়া অভিযোগে মো. রুবেল রানা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় জুতার ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে নেত্রকোনায় ‘মেসার্স সন্ধি ট্রেডার্স’ নামে বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা করছেন। অভিযুক্ত নজরুল ইসলামসহ অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের অজহর রোডে রুবেল রানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও গাড়িচালককে নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে একদল লোক তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক মোক্তারপাড়া মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন রুবেল রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
রুবেল রানা আরও দাবি করেন, তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় বাকি টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পরদিন নজরুল ইসলাম মোবাইলে বাদীর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে হুমকি দেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের কাছের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার কিছু অংশ ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রদীপ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলায় আদালত আজ আসামি নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।