নেত্রকোনা শহরে বাসায় ঢুকে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাঁচাতে গেলে ওই গৃহবধূর স্বামী ও ছেলেকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাঁদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী গিয়ে আব্দুর রশিদ নামে হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরের কাটলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
িহত মনোয়ারা বেগম শহরের কাটলী এলাকার আবু চান মিয়ার স্ত্রী। আহতরা হলেন মনোয়ারার স্বামী আবু চান মিয়া (৬০) ও ছেলে মুন্না মিয়া (২৫)। আর আটক অভিযুক্ত হামলাকারী হলেন একই এলাকার আব্দুর রশিদ (২৮)। তিনি পেশায় রিকশাচালক।
নিহতের মেয়ে লিজা মণি বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে বাসায় ঢুকে দেখেন বাবা ও ভাইকে রশিদ মিয়া কুপিয়ে আহত করেছে। এ সময় আমি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এসে বাবা ও ভাইকে উদ্ধার করেন। পরে বাসার খাটের নিচ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। হামলাকারী রশিদ পূর্বপরিচিত। প্রায়ই টাকা হাওলাত নিত।’
আজ মঙ্গলনার নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার হতাহতের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় ছেলে মুন্না মিয়া এগিয়ে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাঁদের বাঁচাতে মনোয়ারার স্বামী আবু চান এগিয়ে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা ঘটনা টের পেয়ে ওই বাসাতেই হামলাকারী আব্দুর রশিদকে আটক করে। স্থানীয়রা আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ছেলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রশিদকে আটক করে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।