কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক
নেত্রকোনার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে সালিস বৈঠকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় মাতব্বরেরা। গতকাল সোমবার রাতে নেত্রকোনার সদর উপজেলার দক্ষিণবিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে এ সালিস অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে সালিসের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। তবে সকাল থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। খবর পেয়ে আজ দুপুরে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
রিপন মিয়া সদর উপজেলার নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে কনটেন্ট ক্রিয়েটের কাজে রিপন মিয়ার সহযোগী ছিল। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে ওই কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়ায় রিপন। কয়েকদিন আগে ওই কিশোরীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় রিপনকে দেখে ফেলে এলাকার কয়েকজন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রাতে স্থানীয় একটি বাজারে সালিসে বসেন মাতব্বরেরা। সালিসে ভুক্তভোগীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিবেচনায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় রিপনের বাড়িটি ওই কিশোরীর নামে লিখে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিপনকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় সালিসে।
সালিসে উপস্থিত থাকা স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, ‘ওই সালিসে আমি তেমন কিছু বলিনি। রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে সালিস বসেছিল। রিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরে ওই কিশোরীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় রিপনের বাড়ি ওই কিশোরীকে লিখে দিতে বলা হয়েছে।’
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘সালিসে উপস্থিত লোকজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলব। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যেমনটা প্রচার হয়েছে, এমন ঘটনা সালিসে মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই।’