নেত্রকোনা শহরের বড় বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান ও তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬-৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বড় বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুচিত্রা স্টোর নামের প্লাস্টিকের খেলনা ও কসমেটিকসের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাশের দোকান ও দোকানসংলগ্ন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এতে উত্তম মজুমদারের কসমেটিকস ও ক্রোকারিজের দুটি দোকান, আরিফ সু-স্টোর, মজুমদার ইলেকট্রনিকসসহ মোট পাঁচটি দোকান এবং তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের সাতটি ইউনিট প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
মো. জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি দোকান ও তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব নির্ধারণের কাজ চলছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৬-৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অনুমান করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ, ৩১ বিজিবি, র্যাব-১৪ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা পৌঁছে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেন। তবে আগুন দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আরিফ সু-স্টোরের মালিক আরিফ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সর্বশেষ আমার গুদামে মালামাল মজুত করেছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। জীবনের সব জমানো টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি শেষ। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব, জানি না।’