াটোরের গুরুদাসপুরে বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ে ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। সোমবার পৌরসভার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মসলেম সরকার গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তাঁর মেয়ে বিউটি বেগম (৪০), জামাতা পুলিশ সদস্য আবু সাইদ (৫০) এবং সরোয়ার শাহ (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভাড়াটে সরোয়ার শাহর বিরুদ্ধে শহরের একটি সিনেমা হল ভাঙচুর ও লুটপাটের একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসলেম সরকার তাঁর পাঁচ মেয়ের নামে ৫৬ দশমিক ৫০ শতক জমি লিখে দেন। তবে শর্ত ছিল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই জমির ভোগদখল তাঁদের কাছেই থাকবে। বর্তমানে ওই জমির ওপর নির্মিত দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
মসলেম সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি লিখে দেওয়ার পর অন্য চার মেয়ে বিষয়টি নিয়ে মাথা না ঘামালেও বিউটি বেগম তাঁর পুলিশ সদস্য স্বামীর প্ররোচনায় বাড়িসংলগ্ন ১৬ শতক জমি দখলে নিতে মড়িয়া হয়ে ওঠেন। এনিয়ে মাঝেমধ্যেই পারিবারিক কলহ হতো। বাধ্য হয়ে তিনি মেয়ে বিউটি বেগমকে লিখে দেওয়া জমির দলিল বাতিল ও ১০৭ ধারায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এমন অবস্থায় মেয়ে বিউটি বেগম সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে জমির দখল নিতে এসে তাঁদের তালাবদ্ধ রাখেন এবং ভাড়া দেওয়া দুটি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়রা এগিয়ে না আসায় বাধ্য হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও কামাল হোসেন জানান, তাঁরা মসলেম সরকারের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
মসলেম সরকার আরও জানান, মেয়ে বিউটি বেগমের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে তিনি আদালতে জমির দলিল বাতিল এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনগত প্রতিকার চেয়ে মামলা করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরোয়ার শাহ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর বা দখল নেওয়ার ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
অভিযুক্ত বিউটি বেগম বলেন, ‘আমি আমার নিজের জমির দখল নিয়েছি। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় লোকজন ভাড়া করেছি।’
জামাতা পুলিশ সদস্য আবু সাইদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে। তবে ঘটনাকালে আমি কর্মস্থলে ছিলাম। আমার স্ত্রী কী করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না।’
গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) আকবর আলী বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে বৃদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’