নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন দাদার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শিশুটির বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাব এলাকায় একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে এসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, শিশুটির দাদা বজলুর রহমান ৯ মে বাড়িতে একা পেয়ে তাঁর ১০ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা প্রতিবাদ করলে দাদা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, মূল ঘটনা আড়াল করতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় ভাঙচুর ও গরু চুরির মামলা করা হয়। পরে ১৮ মে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পাঁচ দিন কারাভোগের পর ২৩ মে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর বৃদ্ধ বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর কথা শোনেন।
জেল থেকে মুক্ত হয়ে গত রোববার শিশুটির বাবা রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দাদা বজলুর রহমান বলেন, ‘সে আমার নিজের ছেলে হয়েও আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। সে আমার বাড়িতে ভাঙচুর করায় আমি তার নামে মামলা করেছি। আমরা সামাজিকভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। আমি আমার নাতনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করিনি।’
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।