নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার ছয় দিন পর বুলবুল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। আজ সোমবার নিহতের স্বজনরা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন। গত ১৬ জুনের সংঘর্ষে এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের নয়রাবাদ এলাকার মেঘনা নদীতে ভেসে ওঠা মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।
নিহত বুলবুল মিয়া নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। তিনি আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুন ভোরে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ভোর ৪টা থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে টেটা, দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা সেদিন স্পিডবোটে এলাকায় প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। জবাবে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে প্রথমে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক অনিক (২০)। এরপর নিখোঁজ হন আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থক প্রবাসফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও বুলবুল মিয়া। পরে ১৭ জুন মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেটাবিদ্ধ কাউছারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৮ জুন নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল লতিফের মরদেহ। ২১ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গুলিবিদ্ধ মোস্তাফা মিয়া (৪০)। সবশেষ বুলবুল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়ায়।
নৌ পুলিশ জানায়, আড়াইহাজার উপজেলার নয়রাবাদ এলাকায় মেঘনা নদীতে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনরা বুলবুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “ রায়পুরায় সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনিক ও কাউছারের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। বাকি তিনটি হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।” তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত রাজু মিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের প্রধান নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ধারণা, তারা দুজনই আত্মগোপনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।