নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও বুলবুল নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত আব্দুল লতিফ নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও ব্যবহার করেছিল। সংঘর্ষের পর থেকেই আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন।
আজ সকালে গোবিনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুল লতিফকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার ভোরে তারা স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় প্রথমে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক অনিক (২০)।
সংঘর্ষের পর আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থক বুলবুল, কাউছার মিয়া ও আব্দুল লতিফ নিখোঁজ হন। গতকাল বুধবার নরসিংদীর মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ গোবিনাথপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল লতিফের মরদেহ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে এখনও বুলবুল নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত বুলবুলের নিহত হওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুলবুলের সন্ধানে পুলিশ ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “গোবিনাথপুরে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনিক হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”