নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ এলাকায় মহাসড়কের পাশে উদ্বোধন করা হলো বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জীবন ও আত্মত্যাগের প্রতীকী ভাস্কর্য ‘বাংলার ঈগল’। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কারণে অপসারিত আগের স্মৃতিস্তম্ভটি এবার আরও বৃহৎ, নান্দনিক ও আধুনিক রূপে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাস্কর্যটির শিল্পনির্দেশক ভাস্কর অলি মাহমুদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ নির্বিঘ্ন করতে গত ২০ জানুয়ারি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পরিবারের সম্মতিক্রমে আগের ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়। পরে আগের নকশা ও ভাবধারা বজায় রেখে তিন মাসে নতুন করে বৃহৎ আকারে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়, যাতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা।
ইউএনও মো. মাসুদ রানা জানান, আগের ভাস্কর্যটি ছিল ১৬ ফুট বাই ১২ ফুট। নতুন সংস্করণে এটি ৩১ ফুট উচ্চতা ও ২২ ফুট প্রস্থে নির্মিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের জাতীয় অহংকার। তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘‘বাংলার ঈগল’’ শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, এটি স্বাধীনতার চেতনা ও বীরত্বের স্থায়ী প্রতীক।’
ভাস্কর্যটির শিল্পনির্দেশক অলি মাহমুদ জানান, বাংলার ঈগলের নকশায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তাঁর সাহসী আত্মত্যাগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাস্কর্যের শীর্ষে তাঁর উড্ডয়নের প্রতীক হিসেবে টি-৩৩ যুদ্ধবিমানের প্রতিরূপ সংযোজন করা হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর তিনি শহীদ হন। তাঁর পৈতৃক নিবাস রায়পুরা উপজেলার বর্তমান বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগরে।