নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় এক শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন ওই শিক্ষক। এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চৌঘরিয়া আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মনজিল মোল্লা (৩২) বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর বাড়ি পাশের মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পুবেরগাঁও গ্রামের রাশিদুল ইসলাম (২৬) ও ইমন মিয়া (২০)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোর পলাতক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিক্ষক মনজিল মোল্লা বিদ্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে স্কুলের গেটের সামনে ডেকে নেন। সেখানে এক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানোর অনুরোধ করা হলে তিনি সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে কিলঘুষিতে গুরুতর আহত শিক্ষক অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিদ্যালয়ের দপ্তরি তাঁকে উদ্ধার করে অন্য শিক্ষকদের খবর দেন। প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মৃধা ও সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চেতন ফেরার পর তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এক হামলাকারীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরেকজনকে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুর রহিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনূর মিয়া এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষক শিবপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে আসামি করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মৃধা বলেন, শিক্ষকের ওপর এমন হামলার সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।