নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আলোচিত হেকমত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে লাশ গুমের কাজে সহযোগিতার দায়ে তাঁর ভাই মাহফুজুর রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, ২০২০ সালের মার্চ মাসের দিকে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে রূপগঞ্জ উপজেলার কালাদিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা হেকমতকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
নিহত হেকমত ও আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজ যৌথভাবে একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার অংশীদারত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে সবুজ কৌশলে হেকমতকে ডেকে নিয়ে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন এবং পরে তাঁকে হত্যা করেন। হত্যার পর একটি ড্রাম কিনে তার ভেতরে লাশ রেখে ওপরে সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ড্রামটি একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খাল থেকে সিমেন্টভর্তি ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। ড্রাম ভেঙে ভেতর থেকে হেকমতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ জাকির আরও জানান, দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপর এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার আরেক আসামি (সবুজের বাবা) বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আবসান করা হয়।
মামলার বাদী ও নিহত হেকমতের স্ত্রী রোকসানা বেগম এই রায়ে আংশিক সন্তুষ্ট বলে জানান। তাঁদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্যক্তি মিলে সংঘটিত করেছে। প্রধান আসামির ফাঁসির রায়ে আমরা কিছুটা সন্তুষ্ট। তবে সবাই মিলে পরিকল্পনা করে হত্যা করেছে। সবুজ দায় নিজের ওপর নিলেও অন্যদেরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। আমরা সামনে উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার আশা করছি। অন্য আসামিদের শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।