নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ভিওইল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়, পাঠদানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অভিযোগ তুলে তাঁরা মানববন্ধন করেছেন।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শতাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে না থেকে বাইরে আড্ডা দেন। শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার পরিবেশে। এর প্রতিফলন ঘটেছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। কিন্তু কলেজে গিয়ে যদি তারা দেখে শিক্ষক নেই, শিক্ষকেরা বাইরে আড্ডা দিচ্ছেন—তাহলে তারা কী শিখবে? এমন অবহেলার কারণেই এবার পরীক্ষার ফলাফল এত খারাপ হয়েছে।’
আরেক অভিভাবক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অধ্যক্ষের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা হয়েছে। অবিলম্বে নিয়মিত ক্লাস চালু এবং অনিয়মের দায় নিয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ ও ভোকেশনাল শাখা থেকে মোট ৬৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় ফলাফলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। আগামীতে ফলাফল ভালো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ।