নওগাঁর মান্দায় ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ বাইকচালকেরা। আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বাইকচালকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেলের মজুত থাকলেও তা বাইকারদের না দিয়ে গভীর রাতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। নামমাত্র কিছু বাইকারকে তেল দিয়ে পাম্প বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকেরা। প্রশাসনের তদারকি না থাকার সুযোগে পাম্পমালিকেরা বিতরণে এমন কারসাজি করছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।
জানা গেছে, রোববার উপজেলার শাপলা ফিলিং স্টেশনে পেট্রল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইকচালকেরা নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ চালকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা।
বিক্ষুব্ধ বাইকচালক শরিফ উদ্দিন বলেন, রোববার সকাল ৭টার থেকে উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত শাপলা ফিলিং স্টেশনে বাইকচালকদের মধ্যে পেট্রল বিতরণ শুরু করা হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত ৩ হাজার লিটার তেল বিতরণের কথা জানিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। অথচ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় মিলছে ১ লিটার তেল।
আসলাম হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি সকাল ৬টার থেকে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা শেষ লাইনে ছিলাম। মাঝ পথে এসে তেল নেই বলে জানিয়ে দেয় পাম্পমালিক পক্ষ। আদৌ তেল ফুরিয়ে গেছে কি না আমরা জানি না। তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছি।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘পাম্প কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি লক্ষ্য করেছি। আমাদের তেল দেওয়ার কথা ছিল ৩০০ টাকা করে। পরবর্তী সময়ে ম্যানেজারের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ৫০০ টাকা করে তেল দেওয়ার কারণে অনেক ভুক্তভোগী তেল পাননি। আমরা যাঁরা চাকরি করি, তেলের অভাবে আমাদের গাড়ি না চললে বেতন পাব না। তাহলে আমরা খাব কী। তাই মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।