হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার ২৩৭ গাছ কাটা হচ্ছে, নেপথ্যে স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কাটা হচ্ছে সরকারি রাস্তার গাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বন বিভাগের কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনটি সরকারি রাস্তার ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ নিলামে বিক্রি করে কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসাদপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা এসব গাছ কাটার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম এবং ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া সরকারি রাস্তায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে ইউক্যালিপটাস ও আমগাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে হঠাৎ করেই গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয় এফডব্লিউএডি।

সংস্থাটি বিক্রির জন্য ১২০টি ইউক্যালিপটাস ও ১১৭টি আমগাছ চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গাছের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে।

৬ জুলাই বেসরকারি সংস্থাটির চেয়ারম্যান কে এম লুৎফর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা দলের সহসভাপতি আসমা ইসলাম গাছগুলো নিলামে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বন বিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা ডাকে অস্বীকৃতি জানালে ওই নিলাম কার্যক্রম ভেস্তে যায়।

এরপর আবারও নিলাম ডাকার আয়োজন করা হয়। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে দ্বারিয়াপুর স্কুলসংলগ্ন মোড়ে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো নিলামে কিনে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা গাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।

নিলাম কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কে এম লুৎফর রহমান খান, প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলাম, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নিলাম ডাকের পরদিন আজ সোমবার আব্দুস সামাদ শ্রমিক লাগিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সব নীতিমালা মেনেই গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে।

এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কে এম লুৎফর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না, তথ্য নিতে হলে অফিসে আসতে হবে—এ কথা বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার দপ্তরে এ ধরনের কোনো আবেদনও করা হয়নি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ এভাবে কেউ কেটে নিতে পারেন না।’

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ওইসব রাস্তার গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য এ দপ্তরে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে কয়েক দিন আগে একটি অবগতিপত্র দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি সরকারের পতন ঘটাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নওগাঁয় টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ, সমিতির চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

জমি নিয়ে বিরোধে ৫৫টি গাছ কাটার অভিযোগ, গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ

ধামইরহাটে যাত্রীছাউনি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বিছানায় শুয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন বাবা, সেই ছেলের হাতেই খুন

ধামইরহাটে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩

আত্রাইয়ে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার

নিয়ামতপুরে রাস্তার ধারে পড়ে ছিল মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

নওগাঁর আমচাষিদের দুশ্চিন্তা: কম দাম, বেশি ওজন