ময়মনসিংহে মুক্তাগাছা উপজেলায় এক ব্যক্তির সঙ্গে জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর ৯ বছরের এক ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি (৯)। সে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং মুক্তাগাছা শহরের একটি রেসিডেনসিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে রাফিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতে শিশুটির পরিবার মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে আজ শনিবার সকালে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও কলেজছাত্র নূর মুহাম্মদ খোকনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানান, তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন সময় জুয়া খেলতে বাধা দিতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়। বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকেই শিশুটিকে প্রথমে অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়।
পরে শনিবার দুপুরে খোকনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রাফির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, খোকনকে বিভিন্ন সময় জুয়া খেলায় নিষেধ করতেন। খোকন একজনের কাছে অনলাইন জুয়া খেলার এক লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। তিনিসহ কয়েকজন মিলে কিছুদিন আগে সেই টাকা উদ্ধার করে দেন। খোকনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেখান থেকে একটি অংশ তাঁরা নেন। এসব থেকে খোকন ক্ষুব্ধ হন। এই ক্ষোভের জেরে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের জিডির পর তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন হিসেবে খোকনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।