হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মেয়ে ও জামাইসহ মা কারাগারে

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় স্বজনদের মধ্যে দু-পক্ষের সংঘর্ষে নিহত কৃষক নাছির উদ্দিনের (৫৫) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যখন হাসপাতালের মর্গে। সেই সময় সংঘর্ষে আহত তার মা, বোন-ভগ্নিপতি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় নাছির উদ্দিনকেই হত্যার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। 

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশি পাহারায় হাসপাতালের তৃতীয় তলায় চিকিৎসা নেন। 

পরে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃতদের জামালপুর আদালতে হাজির নেওয়া হলে, বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহত নাছির উদ্দিনের মা হেনা বেওয়া (৬০), চাচাতো ভাই হজরত আলী (৩৫), ভগ্নিপতি সুলতান (৪৪), ভাগনে রাকিবুল (২০), বোন রাহেলা (৩৫) এবং রোজিনা বেগম (৩০)। 

স্থানীয়রা বলছে, গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দু-পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের উত্তর সিরাজাবাদ গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের ছেলে নাছির উদ্দিন মারা যান। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। নিহত নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. নাইমুর রহমান বাদী তাঁর দাদি, দুই ফুপু এবং ফুপাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে রাতেই ইসলামপুর থানায় হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাছির উদ্দিনকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি গাভি দেওয়া হয়। সম্প্রতি সবার অজান্তে ওই গাভিটি নাছির উদ্দিনের বোন রোমা বেগম তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বিষয়টি অস্বীকার করেন। 

এ নিয়ে নাছির উদ্দিনের শাশুড়ি রহিমা বেগম বাদী হয়ে নাছির উদ্দিনের বোন রোমা বেগমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে জামালপুরে ইসলামপুর আমলি আদালতে গরু চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। 

অন্য দিকে, মারধরের হুমকির অভিযোগ এনে নাছির উদ্দিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর আদালতে একটি মামলা করেন নাছিরউদ্দিনের মা মা হেনা বেগম। 

গতকাল বুধবার উভয় মামলার আসামিদের আদালতে হাজিরার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন দুপুরে নাছির উদ্দিন আদালতে হাজিরা দেন। 

আদালত চত্বরে বোন রোমা বেগমের লোকজন নাছির উদ্দিনকে পেয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আদালত থেকে বিকেলে বাড়িতে ফিরে এলে নাছির উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বোন রোমা বেগমসহ তাঁর লোকজন। একপর্যায়ে নাছির উদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় স্থানীয়রা। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত নাছির উদ্দীনের শাশুড়ি রহিমা বেগম বলেন, ‘আমি একটি গাভি গরু দান করেছিলাম মেয়ে জামাই নাছির উদ্দিনকে। গরুটি চুরি নাছিরের বোন রোমা বেগম তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। গরুটি ফেরত না দিয়ে উল্টো আমিসহ নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় আমরা গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলাম। আদালতের বারান্দায় মামলার বাদী পক্ষের লোকজন আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। বিকেলে বাড়িতে এলে আমাদের ওপর হামলা করে। তাতে নাছির উদ্দিন মারা গেছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।’ 

নিহত নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. নাইমুর রহমান বলেন, ‘বাবাকে হত্যা করায় দাদি, দুই ফুপু, ফুপা ও চাচাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার মাত্রই বাবার ওপর হামলা করে আমার ফুপু রোমা বেগমের লোকজন। আব্বাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ওরা।’ 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরাম  হোসেন বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি হযরত আলী এবং ২ নম্বর আসামি সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

ভালুকায় অটোরিকশার ধাক্কায় কৃষক নিহত

ময়মনসিংহে ল্যাম্পপোস্ট চুরি করতে গিয়ে দুই যুবকের মৃত্যু

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটের পক্ষে কাজ করতে পারবেন: আলী রীয়াজ

সড়কের পাশে ছুড়ে ফেলা কার্টন থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

শেরপুরে বাবার হাতে শিশুকন্যা নিহত, আরেক সন্তান আহত

পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে জামালপুরে রেলপথ অবরোধ

ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সর্বস্ব হারিয়ে পথে পথে চা বিক্রি করছেন মা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আগুন, হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন আহত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে, রোগী ও স্বজনদের স্বস্তি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে