হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে ২৩ শিশুর মৃত্যু হলো।
রোগীর বাড়তি চাপে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। বাইরের ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানান স্বজনেরা।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন ভর্তি হয়েছে ৩০ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮২ শিশু।
মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু জেলার ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। গত ২৮ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল সে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রোববার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান।
গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় ১ হাজার ৪৬ শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৪১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩ শিশুর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩০ জন।
আইসিইউ সংকটসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিশুর স্বজনেরা।
ডলি আক্তার নামে এক শিশুর মা বলেন, গত বৃহস্পতিবার শিশুর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করান। ভর্তির পর ক্যানুলাসহ ওষুধপত্র বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, আইসিইউ সংকটের পাশাপাশি বেডের সংকট রয়েছে। যার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিছু ওষুধ আটতলা ভবন থেকে নেমে গিয়ে বাইরের দোকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৬৪ শিশুর বিছানা থাকলেও বেশি ভর্তি হওয়ায় মেঝেতে জায়গা দিতে হচ্ছে। এতে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় স্বজনদের বাইরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে।