টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার ভূবনকুড়া ও গাজিরভিটা ইউনিয়নের দুটি নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। এতে পানির নিচে তলিয়ে যায় পাকা বোরো ধান। ডুবে গেছে সবজিখেত ও মাছের ঘেরও। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার মেনংছড়া ও বুড়াঘাট নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বুধবার সকালে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ ও গাজিরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এরপরই প্লাবিত হয় ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি এবং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া ও রাংরাপাড়া গ্রাম।
অন্যদিকে গাজিরভিটা ইউনিয়নের বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, মধ্য বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া, মহাজনীকান্দা, পূর্ব কালিয়ানিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রামেও পানি ঢুকে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকার বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। নিচু এলাকার মানুষজন প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। মাঠজুড়ে পানির নিচে ডুবে আছে পাকা বোরো ধান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্লাবিত এলাকায় গড়ে ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছিল। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের। তবে কৃষকেরা বলছেন এই সংখ্যা আরও বেশি হবে।
বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, “কয়েক দিন আগে ঢলে নষ্ট কইরা গেছে বাদাম। ধান পানিতে ডুবলেও তেমন ক্ষতি অয়নাই। এহন তো ধান পাকা। দুই-এক দিনের মধ্যে কাটার কথা আছিল। এহন সব পানির নিচে। বোয়ালমারা এলাকায় যদি বান্ধের ব্যবস্থা না অয়, তাইলে আর কোন ফসল ঘরে তুলন যাইবো না। এইহানে স্থায়ী বান্ধ অইলে এত ক্ষতি অইতো না।”
মাজরাকুড়া এলাকার কৃষক ইব্রাহিম বলেন, ‘‘পাহাড়ী ঢলে পানি উপচে বাড়িঘরে উঠে গেছে। ফসলের মাঠ পানির নিচে। আমরা এখন নিরুপায়”।
হালুয়াঘাট দর্পণ পরিষদের পরিচালক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী এসব এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদী সংস্কার এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ দুর্ভোগ কমবে না।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবিএম লুৎফর রহমান বলেন, গাজীরভিটা ইউনিয়নে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “দুপুর পর্যন্ত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ”
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ”