আদালতের দেওয়া দণ্ড মাথায় নিয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব। ২৬ বার আদালতের তাগিদ সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া সাংবাদিকদের জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলমগীর আলম বিপ্লবকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসপি) ও হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি ওসি ওয়ারেন্ট তামিল না করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ওসির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিআইজি আরও মন্তব্য করেন, ‘সব ওসির কর্মক্ষমতা সমান নয়; অন্য কোনো দক্ষ কর্মকর্তা হলে এত দিনে ওয়ারেন্ট তামিল হয়ে যেত।’
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন, ‘আলমগীর আলম বিপ্লব ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। আমরা তাকে খুঁজছি। ধরার চেষ্টা করছি।’
আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখা কর্তৃক দায়েরকৃত অর্থঋণ মামলা নং-৩৭/২০১৮-এ আলমগীর আলম বিপ্লবকে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর ৩৪(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রিমিয়ার ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সুদ ও জরিমানা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ব্যাংকের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নাজমুন নাহার হালুয়াঘাট থানার ওসি বরাবর একটি কড়া তাগিদপত্র (স্মারক নং ৮২) পাঠিয়েছেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ারেন্ট জারির পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ বার তাগিদ দেওয়া হলেও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে।
আদালতের আদেশে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ারেন্ট তামিল না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিচারক আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিপ্লব পলাতক নন বরং প্রকাশ্যেই সব কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের প্রায় প্রতিটি সভা-সমাবেশে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যায়। এমনকি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালেও তিনি একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন।
ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রাহাত হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাঁকে ধরছে না। বিপুল অঙ্কের এই টাকা আদায় না হওয়ায় আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’