হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

মমেক হাসপাতাল: চিকিৎসকের অপেক্ষায় ঘণ্টা পার

ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ 

ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের পর চিকিৎসকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত অনেকেই বসে পড়ে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে। সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

টিকিট সংগ্রহ, চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ নেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। সেই সঙ্গে রোগীদের কাছে নতুন আতঙ্কের নাম ট্রলি বয়। ট্রলি ব্যবহার করলেই তাঁরা রোগীপ্রতি নিচ্ছেন ৮০-১০০ টাকা। এতে ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধ্যবয়সী রতন মিয়া। চিকিৎসা নিতে গত ১৪ মার্চ রাতে তিনি ময়মনসিংহ শহরে আসেন। পরদিন সকালে টিকিট সংগ্রহ করে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষাতেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। রতন মিয়া বলেন, ‘গত রাতে ময়মনসিংহে এসেছি। সকাল ৭টায় হাসপাতালে এসে টিকিট সংগ্রহ করতে সাড়ে ৮টা বেজে যায়। এখন সকাল সাড়ে ৯টা, কিন্তু চেম্বারে ডাক্তার বসেননি।’

সম্প্রতি এই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সময়মতো চিকিৎসক না বসায় লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত রোগীদের অনেকেই মেঝেতে বসে আছেন। ঘুমাতেও দেখা যায় অনেককেই। তাদের একজন নান্দাইলের রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাই সকাল ৮টার দিকে। টিকিট সংগ্রহ করে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি। শরীরটা খুব ক্লান্ত।’

৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখিয়ে স্লিপ নিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করতে যান ফুলবাড়িয়া উপজেলার হিমেল। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক স্লিপে চার প্রকার ওষুধ লিখলেও পেয়েছি দুই ধরনের। বাকিগুলো ফার্মেসি থেকে কিনতে বলছে।’

এদিকে পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপে মেঝেতেও পা ফেলার জায়গা নেই। সেখানে শরীফ হাসান নামের এক স্বজন বলেন, ‘জরুরি বিভাগের সামনে থেকে আমার রোগীকে দোতলায় আনতে ট্রলি বয়কে দিতে হয়েছে ১০০ টাকা। রোগীকে ট্রলি করে ডাক্তার দেখাতে নিলেও বকশিশ দিতে হচ্ছে। না দিলে খারাপ আচরণ করে।’

বাবাকে ভর্তি করিয়েছেন ফুলপুরের মো. ইয়াসিন। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়। ইয়াসিন বলেন, এত খারাপ অবস্থা কোথাও হতে পারে না। ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে ওষুধ সংগ্রহ যেন হয়রানির অন্ত নেই। বাবাকে ওয়ার্ড পর্যন্ত ট্রলি দিয়ে আনতে ট্রলি বয়কে দিতে হয়েছে ৮০ টাকা। আবার নিয়ে যাওয়ার সময়ও দিতে হবে বলে দিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ট্রলি বয় বলেন, ‘আমরা কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। কেউ ভালোবেসে দিলে নিই।’

রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন বলেন, এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকে সাড়ে চার হাজার রোগী। বহির্বিভাগে সেবা নেয় ৫-৭ হাজার রোগী।

সম্প্রতি যোগদান করেছেন উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, ‘সব বিষয়ে অবগত হয়েছি। এখন দায়িত্ব নিয়ে বলছি, রোগীরা যেন পর্যাপ্ত সেবা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি আছে, তা খতিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওষুধ যে পরিমাণ মজুত থাকে, তা যেন সরবরাহ করা হয়।’

ট্রলি বয়দের বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ আসায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনটি আর হওয়ার সুযোগ নেই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ছেলের লাশের অপেক্ষায় বছর পার এক মায়ের

ময়মনসিংহে ট্রাক্টর-অটোরিকশা সংঘর্ষে কলেজশিক্ষকসহ ২ জন নিহত

নকশাবহির্ভূত ভবনে টানানো হলো অপসারণের নোটিশ, সময় ৭ দিন

হাম আক্রান্তদের চিকিৎসায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড

ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা: ফেলে যাওয়া মানিব্যাগের সূত্র ধরে এক বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

হালুয়াঘাটে ছয় গ্রামে ফসলের খেত প্লাবিত, ঘরে ঢুকে পড়েছে পানি

পেট্রলপাম্পে অবৈধভাবে মজুত করা ২৪ হাজার লিটার তেল জব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার, মামলা ছাড়াই জামায়াত নেতাকে আদালতে পাঠালেন ওসি

বালুর ঘাট নিয়ে সংঘর্ষ: সেই ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি, ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও হয়নি মামলা

বিএনপি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী