মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গত সাত মাসে ১১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে রোড শো বের করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম নূর হোসেন নির্ঝর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এবং মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মুন্সিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের প্রাণহানি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও জীবিকা। অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল থাকে। তাই দুর্ঘটনার কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
জেলা প্রশাসক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহারের পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভার বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, ক্লান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার, নির্ধারিত বাস বে তে গাড়ি থামানো এবং নিরাপদ স্থানে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাও নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাননি—এমন চারজন পেশাদার গাড়িচালককে পুরস্কৃত করা হয়।