মৌলভীবাজারের ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। তিন দিন ধরে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপে উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটকেরা।
মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পের অন্যতম হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক এসেছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রাও ঘুরতে এসেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, দুপুর থেকেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়। উদ্যানের পাশে ছোট একটি পার্কিং ব্যবস্থা থাকলেও তা গাড়ির সংখ্যার হিসেবে খুবই সংকীর্ণ জায়গা। সড়কের দুই পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম, জিপগাড়ি রাখার কারণে পর্যটকের গাড়ি এলেই যানজট আরও বাড়ছে। দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদেরও যানজটে আটকা পড়তে দেখা যায়। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বন বিভাগের কিছু সদস্য যানজট নিরসনে চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না।
যানজটে আটকা পড়া পর্যটকেরা বলেন, দীর্ঘ তিন-চার কিলোমিটার সড়কে যানজট লেগেই আছে। কয়েকজন ছাড়া এই যানজট নিরসনে কেউ কাজ করছেন না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উদ্যানের সামনে এসে অনেক পর্যটকের সময় নষ্ট হয়েছে। বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সাব্বির আহমেদ বলেন, সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে শ্রীমঙ্গল গেছেন। যাওয়ার সময় যানজটে পড়েছেন। আসার সময় প্রায় চার কিলোমিটার যানজট ছিল। পর্যটকবাহী বড় বড় বাসের জন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করে রাখায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
বন বিভাগ বলছে, অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনের কারণে এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগ ও টুরিস্ট পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যানজট নিরসনে ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় কাজ করছে। সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি থাকায় ও উদ্যানের সামনে বেশি গাড়ি থাকায় বিকেলে এই যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।