হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে হাজারো পরিবার পানিবন্দী, প্রস্তুত ১১৫ আশ্রয়কেন্দ্র

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গোপালীছড়ায় আজ বুধবার বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর প্লাবিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারের নদীর পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চারটি নদীতে পানি বাড়ছে। জুড়ী নদীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। তবে জুড়ী বাদে অন্য সব নদ-নদীতে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলায় গোপালীছড়ায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক শ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদের পানি বৃদ্ধিতে ভাঙন দেখা দেয়। এতে তীরবর্তী কবরস্থান ও একটি মক্তব নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে ছয়টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজর, শমশেরনগর সদর ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুই শতাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ১০০ টন চাল ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এ ছাড়া সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি সকালে বৃদ্ধি পেলেও দুপুর থেকে কমা শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের পানিবন্দী কামাল আহমেদ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। সকালে আমাদের রাস্তা ও বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।’

কুলাউড়ার ইউএনও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে রাস্তা তলিয়ে গেছে। তবে দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে।

সদরের ইউএনও মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদের তীরের একটি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা রাতে সেই এলাকা পরিদর্শন করেছি। আজ দিনেও একবার পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘রাতের বৃষ্টিতে জেলার নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি নজরদারি করছি।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ৩৫ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে

বড়লেখায় ডাকাতের গুলিতে প্রাণ গেল অন্য ডাকাতের

মৌলভীবাজারে বৃষ্টি ও ঢলে পানিবন্দী ৫ শতাধিক পরিবার

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ডুবছে বোরো ধান, বিপাকে কৃষক

মৌলভীবাজারে কালবৈশাখী, ২২৫ জায়গায় তার ছিঁড়ে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

বৈরী আবহাওয়ায় বোরো ধান কাটা-মাড়াই ব্যাহত, জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার আশঙ্কা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ: টিলা-ছড়া কেটে বালু ও মাটি লুট, নির্বিকার প্রশাসন

মৌলভীবাজারে আবাদের আওতায় এসেছে ৫ হাজার হেক্টর পতিত জমি

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৬ ট্রাক জব্দ

মৌলভীবাজারে ঘরে ডুকে ২ বোনকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১