মেহেরপুরের গাংনীতে নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে সরিষা চাষ। তেলের দাম বাড়ায় চাষিরা আবার সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়েছেন। উপজেলার মাঠগুলো যেন হলুদ গালিচায় ঢাকা। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে মৌমাছিরা ব্যস্ত, আর পথচারীরাও এর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মাঠ সরিষা ফুলে ভরে গেছে। ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করছে। পুরো মাঠ হলুদ গালিচার মতো ছড়িয়ে আছে।
জোড়পুকুরিয়ার সরিষাচাষি জিনারুল ইসলাম বলেন, ‘তেলের দাম ওঠানামা করছে। দাম বেড়ে গেলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক। বছরে তেল কেনার খরচ বাঁচাতে সরিষা চাষ করছি। সরিষা থেকে তেল, গবাদিপশুর খাবার এবং সবুজ পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় চার-পাঁচ মণ সরিষা পাওয়া যায়, যা প্রায় ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’
সরিষাচাষি মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় মানুষ মাসে প্রয়োজনীয় তেল কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই নিজের পরিবারের জন্য সরিষা চাষ করেছি। বর্তমানে উপজেলার অনেক চাষি এই ফসলের আবাদ করছেন।’
পথচারী মো. হাসান আলী বলেন, ‘জোড়পুকুরিয়া মাঠ সরিষার ফুলে পরিপূর্ণ, দেখতেও অসাধারণ। স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে ছবি তুললাম। রাস্তার ধারের হওয়ায় মনোমুগ্ধকর দেখাচ্ছে। মৌমাছিরাও এখানে পর্যাপ্ত মধু সংগ্রহ করছে।’
দেবীপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. রুস্তম আলী বলেন, ‘বর্তমানে সাদা ও লাল সরিষার বাজারদর ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। আগের তুলনায় সরিষা চাষ বেড়েছে। আশা করছি, চাষিরা চলতি বছর ভালো দাম পাবেন।’
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৯০০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টন। কৃষি অফিস চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরামর্শ দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো দাম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।