চিকিৎসক সংকটে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। গত চার বছরে মাত্র একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার হয়। এরপর অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) ও সার্জনের অভাবে অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। ফলে বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। এ ছাড়া অন্য বিভাগের চিকিৎসকও সংকট রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। এতে সার্বিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে। এতে ক্লিনিকগুলোতে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে রোগীদের।
১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। রোগীর চাহিদা বিবেচনায় ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনে ২০১৭ সালে রোগীদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন পদে জনবলসংকট থাকার কারণে ৪ লক্ষাধিক মানুষের সেবা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার—সবই আছে শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। এ কারণে অপারেশনের সরঞ্জাম ও এক্স-রে মেশিনের ওপর ধুলার আস্তরণ পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্র জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৭০ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। চিকিৎসক পদ রয়েছে ৩১টি, আছেন ১৮ জন, শূন্য রয়েছে ১১টি। নার্সের পদ ৩০টি, আছেন ২৯ জন। ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছেন একজন।
মাহবুব তানিম নামের এক রোগী বলেন, ‘গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি হাসপাতাল। অথচ এখানে কোনো ডেলিভারি রোগীর অপারেশনই হয় না। যে এক্স-রে মেশিন আছে, সেটিও বন্ধ। এখানে আমরা কম খরচে অপারেশন করতে পারব কিন্তু তা আর হয় না। অপারেশন দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সেবা নিতে আসা অসহায় মানুষ। অল্প খরচে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাংনীবাসী। কত দিন এভাবে পড়ে থেকে এগুলো নষ্ট হবে তা কেউ জানে না। দুই-তিনটা চিকিৎসক নিয়োগ দিলেই এই অপারেশন থিয়েটারটি চালু হবে। কিন্তু সব নিয়োগ হয় এগুলো আর হয় না।’
আব্দুল বারী নামের একজন বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার পা ভেঙে গেছে। গাংনী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, পরে জানতে পারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে হয় না। তাই অন্য ক্লিনিক থেকে করিয়েছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব ইনচার্জ মাহাবুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকার কারণে অত্র এলাকার জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন অ্যানেসথেটিস্ট ও সার্জারি ডাক্তার না থাকার কারণে অপারেশন হচ্ছে না। অ্যানেসথেটিস্ট, সার্জারি ডাক্তারসহ যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান হলে আমরা অতি দ্রুত অপারেশন শুরু করতে পারব। চার বছরে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে।’
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সার্জারি ও অ্যানেসথেটিস্ট না থাকার কারণে দীর্ঘদিন অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া এক্স-রে কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে পদটি শূন্য থাকার কারণে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব। আশা করছি, সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে।’