মেহেরপুরের গাংনীতে ট্রাকের টায়ার চুরির চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বামন্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দোকানমালিক বাদল হোসেন জানান, ভোরে তিনি জানতে পারেন তাঁর টায়ারের দোকানে চুরি হয়েছে। তাঁর ছোট ভাই দোকানে অবস্থান করছিলেন। গ্রিল কাটা ও তালা ভাঙার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি দোকান থেকে বের হলে চোরের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় চোর চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়। ছোট ভাই চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে চোর চক্রের চারজন পালিয়ে যায় এবং একজনকে ধরে ফেলা হয়। এরপর গণপিটুনিতে ওই ব্যক্তি মারা যায়। দোকান থেকে টায়ারসহ কিছু মালামাল চুরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দোকানের কর্মচারী তুষার আহমেদ বলেন, ভোরে চার-পাঁচজনের একটি চোর চক্র দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে টায়ার চুরির চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে তাকে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ভেন্ডি আলী বলেন, ‘আমরা সকালে শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে দেখি চোর চক্রে এক সদস্যকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা জানি না।’
স্থানীয় আমিরুল ইসলাম বলেন, ভোরে চোর চক্রের এক সদস্যকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে পরে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে তিনি গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পান। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘সকালে শুনতে পেলাম চোর চক্রের এক সদস্যকে স্থানীয় জনগণ গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছে। তার নাম-ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’