২ জুলাই এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলনের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন রিজাউলের স্ত্রী পিয়া খাতুন। একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলনও করেন তিনি। কিন্তু তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে সন্ধান না পেয়ে ৪ জুলাই মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে ভুক্তভোগী পরিবার। স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে ক্ষোভ আর হতাশায় দুই বছর বয়সী সন্তানকে বিষ পান করানোর পর নিজেও বিষ পান করেছেন রিজাউল মোল্লা (২৫) নামের এক যুবক।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জাগলাচর বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রিজাউল মোল্লা একই এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে বিষপানকারী দুজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পিয়া খাতুন এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলনের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। স্থানীয় কাটাখালী বাজারের একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আর ঘরে ফেরেননি।
রিজাউলের বড় ভাই রুবেল মোল্লা জানান, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রিজাউল মারাত্মকভাবে মানসিক হীনমন্যতায় ভুগছিলেন। গতকাল বিকেলে তাঁর ছেলেকে কীটনাশক পান করানোর পর নিজেও তা পান করেন।
রুবেল মোল্লা বলেন, ‘বিষপানের পর শিশু তাহসিন পরিবারের সদস্যদের কাছে এসে বলে—‘বাবা আমাকে তিতা কী যেন খাওয়াইছে’। দ্রুত ঘরে গিয়ে রিজাউলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পাশে বিষের বোতলও পড়ে ছিল। পরে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কৃষ্ণ গোপাল বলেন, বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। বিষপানের ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।