মাদারীপুরের শিবচরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর কর্মী তাইজুল ইসলামের বসতঘর ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আজ রোববার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েক শ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তাঁর বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন। স্থানীয়দের একাংশকে ব্যানার হাতে তাঁর শাস্তির দাবিতে অবস্থান করতেও দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাইজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রচার প্রচারণায় কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই ইউনিয়নে তিনি দলটির কার্যক্রম পালন করছিলেন।
২৫ অক্টোবর তাঁকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার এক সপ্তাহের মাথায় রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কয়েক শ নারী-পুরুষ একত্র হয়ে তাঁর বসতঘর ভাঙচুর করেন। তবে এ ঘটনায় বাড়িটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, সকালে অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন করেছেন বলে জানতে পেরেছি। পরে কয়েকজন তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।