যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ মাদারীপুরের গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে আজ সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির মরদেহ। বেলা দেড়টার দিকে লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ছুটে আসেন বৃষ্টির ছোটবেলার খেলার সাথিরাও। সেখানে তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ। পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা বাদ আসর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়।
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আনন্দঘন পরিবেশে দেশে ফেরার কথা ছিল বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরল। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সারাক্ষণ হাসিখুশিতে থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তা-ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বৃষ্টি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। এই মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। আমরা সব সময় নিহত বৃষ্টির পরিবারের পাশে আছি।’
সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বৃষ্টি পাড়ি জমান আমেরিকায়। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাদে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে।
বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর লিমন পিএইচডি করছিলেন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে। তাঁদের মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তাঁদের একজন বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। লিমনের মরদেহ ৪ মে ঢাকায় আসে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।