রেলওয়ের লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে বেশ কিছু লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে। প্রতিদিন করতোয়া ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস, দোলনচাঁপাসহ চারটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে এই রুটে।
দেশের দীর্ঘতম লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলপথটি জেলার পাঁচটি উপজেলাকে যুক্ত করেছে। উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। লালমনিরহাট রেলওয়ের একটি বিভাগীয় শহর। সম্প্রতি রেলপথটির আধুনিকায়ন করা হয়। লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে চার জোড়া আন্তনগর ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে।
রেলভবন জানায়, লালমনিরহাট জেলার ১০০ কিলোমিটার রেলপথে অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে মোট ৯২টি এবং অনুমোদনহীন রয়েছে আরও ৩০টি। অনুমোদিত ৯২টির মধ্যে মাত্র ৩২টিতে গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো অরক্ষিত। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কেও ১২টি পয়েন্টে লেভেল ক্রসিং রয়েছে। কিন্তু গেটম্যান না থাকায় এসব ক্রসিংয়ে হরহামেশাই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে পথচারীসহ যাত্রীবাহী যানবাহন।
সরেজমিন দেখা যায়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সুকানদীঘি ও কাজিরহাট সড়ক। এ সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিনই চলাচল করছে শত শত সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ট্রাক, ট্রলি, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কটিতে চলাচল করতে আরোহীদের অতিক্রম করতে হয় একটি লেভেল ক্রসিং। কিন্তু কোনো গেটম্যান না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে তারা।
একই চিত্র দেখা যায়, আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ী রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায়। স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় লেভেল ক্রসিং থাকলেও নেই গেটম্যান। গেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় সামাদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী যাতায়াত করে। এই গেট পার হওয়ার সময় মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। তারপরও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছুদিন আগে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস অল্পের জন্য রক্ষা পায় ট্রেনের ধাক্কা থেকে।
আরেক পথচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানালেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি রেল বিভাগ।’
আদিতমারী ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে উত্তরপাড়াগামী সড়কের পথচারী রতন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এ সড়কটিতে ট্রাক, ট্রলিসহ সব ধরনের ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে। এখানকার লেভেল ক্রসিংটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অরক্ষিত। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুজনের মৃত্যুও হয়েছে এই ক্রসিংয়ে। বারবার বলার পরেও গেটম্যান দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।’
রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন, ‘গেটম্যান ছাড়া লেভেল ক্রসিংগুলোতে সতর্কতার নোটিশ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০০ কিলোমিটারের এ পথে বৈধ, অবৈধ মিলিয়ে মোট ১২২টি লেভেল ক্রসিং থাকলেও রয়েছে। এতগুলো ক্রসিংয়ে গেটম্যান দিয়ে ট্রেন চালালে রেল বিভাগ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবুও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সাধ্যমতো গেটম্যান বাড়ানো হবে।’