লালমনিরহাটের পাটগ্রামে শিরিন আক্তার শীলা (২৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী শাহীন মিয়া তুষারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে শাহীন ও তাঁর বাবা-মা পলাতক রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ী এলাকার শাহীনের বাড়ি থেকে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিরিন জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর ছয় বছর বয়সী একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে প্রধানবাড়ী এলাকার সহিদার রহমানের ছেলে শাহীন মিয়ার সঙ্গে শিরিনের বিয়ে হয়। সোমবার বিকেলে খেলা দেখতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীন শিরিনের গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিরিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে শাহীন এক গ্রাম্য চিকিৎসক ও এক অটোরিকশাচালককে ডেকে আনেন। শিরিন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তিনি পালিয়ে যান।
পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারলে শাহীনের পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনের বাড়ি থেকে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহীনের একাধিক প্রতিবেশী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শিরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শাহীন। তিনি পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রায়ই শিরিনকে মারধর করা হতো বলে দাবি করেন তাঁরা।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গলা চেপে ধরার আলামত পাওয়া গেছে। গৃহবধূর গলা ফুলে গেছে এবং ডান হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও বলেন, নিহত শিরিনের বাবা ঢাকা থেকে এসে হত্যা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।