গত ৫ বছরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে মেঘনার ভাঙনের শিকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে সম্পন্ন বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত মেঘনার তীর রক্ষাবাঁধের দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের কাজ ঠিকাদার দিয়ে নয়, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শুরু করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয়রা। তবে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ৩১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রকল্প পাসের পর দরপত্র আহ্বানের কাজ চলছে। ডিসেম্বরের আগে কাজ শুরু করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় ৯৬ কিলোমিটার বন্যা প্রতিরোধ বেড়িবাঁধ রয়েছে। মেঘনার ভয়ংকর থাবায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভাঙনের কবলে পড়েছে কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট, পাটওয়ারীরহাট, চরফলকন, মাতব্বরহাট, লুধুয়া ও রামগতি উপজেলার বাংলা বাজার, আসলপাড়া, গাবতলী ও বড়খেরীসহ ১০টি এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা। অপরদিকে সরকারি হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত এ ৫ বছরে দুই উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি সম্পন্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ ছাড়া চরকালকিনি ও মাততাব্বরহাটসহ অন্তত ২৫টি হাটবাজার ও ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পন্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন, রামগতি ও কমলনগর বাঁচাও মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অনেকে বলেন, সম্প্রতি ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। এরপর থেকে এ দুই উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষের বাচাঁর স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। এর আগেও সাড়ে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ তৈরি করে সেনাবাহিনী। আর কিছু অংশ বেড়িবাঁধ তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি নিম্নমানের হওয়ায় তা ধসে পড়ে। সে আলোকে ঠিকাদার নয়, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজ করাতে হবে। সেনাবাহিনী দিয়ে কাজ করার দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে নদীপাড়ের মানুষজন।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান ও জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ৩১ কিলোমিটার বাঁধের জন্য ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রকল্প পাসের পর দরপত্র আহ্বানের কাজ চলছে। ৫ বছরে ৫০ হাজার মানুষের তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই বাঁধের কাজ শুরু করা হবে।