কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁদের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। আজ শনিবার সকালেও ওই ১২ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডে, সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে একটি পাটখেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিএসএফ পতাকা বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ১২ জনকে কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর তৎপরতায় তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
পুশ ইনের চেষ্টাকৃত ১২ জনের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারটি শিশু রয়েছে। তাঁরা নিজেদের সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করলেও এ দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত হওয়ার পর থেকে ওই ১২ জন ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। তাঁদের রাত কাটাতে হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। শনিবার সকালেও তাঁরা সীমান্তবর্তী পাটখেতে অবস্থান করছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবেদার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পুশ ইনের চেষ্টাকৃত ১২ জন এখনো ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে। শুক্রবার বিকেলে পতাকা বৈঠকের কথা থাকলেও বিএসএফ উপস্থিত হয়নি। তারা শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠকে বসবে বলে জানিয়েছে।’
এদিকে, পুশ ইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পতাকা বৈঠকের ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।