কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে (৬৫) গত শনিবার দুপুরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আজ সোমবার সকালে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা কোনো মামলা করতে চাই না।’ তবে মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, রোববার বিকেলে দাফন সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্যরা বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবার ছাড়াও যে কেউ মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা না হলে আজকে পুলিশই বাদী হয়ে একটি মামলা করবে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিবার না করলেও নিহতের ভক্ত-অনুসারী বা অন্য যে কেউ মামলা করতে পারেন। আর যদি কেউ মামলা না করেন, তাহলে আজই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহের বিষয়ে তিনি জানান, আস্তানার সিসিটিভি ক্যামেরার ড্রাইভ এমনভাবে নষ্ট করা হয়েছে যে সেখান থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করা যায়নি। তবে হামলার সময় উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করেছিলেন, সেসব ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় তাঁর তিনজন অনুসারীও আহত হন। সেই সঙ্গে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় আস্তানায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।