২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা এ হাসপাতালটি নানা সংকটে যেন নিজেই ‘অসুখে’ ধুঁকছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসক, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা তলানিতে পৌঁছে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ১৭৮ চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত মাত্র ২৩ জন। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা নেই। পুরোনো দ্বিতল ভবনের পাশে আধুনিক সুবিধাসংবলিত আটতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটির পূর্ণ সুবিধা মেলেনি।
হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ভর্তি রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে নিয়মিত পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। অনেক সময় দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পান রোগীরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখানো ও মূল চিকিৎসা শুরু করতে অনেক রোগীকে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া শয্যাসংকট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৌচাগার ব্যবস্থাপনা নিয়েও রোগীদের ক্ষোভ রয়েছে।
হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট নেই। অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিকস ছাড়া জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্টের আটটি পদ শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ছয়টি শূন্য। মেডিকেল অফিসার, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের পদও শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই মেশিন নেই। ইকোকার্ডিওগ্রাম, এন্ডোসকপি ও ল্যাপারোস্কপি মেশিন থাকলেও সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসকসহ অনেক ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা জানিয়েছি। সম্প্রতি চারজন চিকিৎসক যোগদান করেছেন, তবে তাতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।’