কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় চেয়ারম্যানের হুকুমে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেন তাঁর লোকজন। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। আজ রোববার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করেছে।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর এলাকার আলশিয়া শেখের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকের (৬৮) সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুর রহমানের (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। হঠাৎ করে গতকাল দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে আসেন। এরপর পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
এ সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাঁর লোকজন ২৫০ মণ ধান, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যান। ঘটনা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সহযোগিতা চান। এরপর রাতে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ আবু বক্কর সিদ্দিক এবং তাঁর স্ত্রী সাহিদা বেগম ও ছেলে ফুল মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে আজ ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে প্রধান আসামি করে পাঁচজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর লুট করা হয়। এ ছাড়া আমার স্ত্রী সাহিদার পেটে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। আমরা নিরুপায় হয়ে পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। চেয়ারম্যানসহ তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি। আমাদের লুটপাট করা মালামাল ফেরত না পেলে পথে বসতে হবে।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি নিজ বাড়িতে ছিলাম। কোনো কারণে হয়তো আবু বক্কর সিদ্দিক আমার ওপর ক্ষেপে আছেন। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা তানজিরুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে পুলিশ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করায়। এর মধ্যে সাহিদা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অপর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আবু বক্কর সিদ্দিক ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।