উজানের ঢলে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানির উচ্চতাও দ্রুত বাড়ছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে জেলা প্রশাসন।
আজ সোমবার পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়ে পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতাও দ্রুত বাড়ছে।
পাউবো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বেড়েছে এবং আগামী চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই নদের পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী এবং পরবতী একদিন মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা সংলগ্ন এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর উজানে ভারতের দোমোহনী এবং গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তার পানি হ্রাস পাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরেও এই নদীর পানি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে থাকলে অন্য নদীর পানি সহসাই নেমে যেতে পারে না। ফলে বন্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’