কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎবিভ্রাট অব্যাহত থাকায় পড়াশোনা, ঘুম ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারীতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করায় মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। বিদ্যুৎনির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্তও বিদ্যুৎ থাকে না। বর্তমানে প্রচণ্ড গরমে এমন পরিবেশে পড়াশোনা করা বেশ কষ্টকর। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরীক্ষা ভালো হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বিপ্লব জয়নাল নামের একজন তাঁর ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল—সবকিছুর দাম বাড়ানোর পরেও কেন আমরা সার্ভিস পাব না? এত সামান্য বিদ্যুৎ পাই যে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি পর্যন্ত ফুল চার্জ হয় না। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে কখন? আজ (গত শনিবার) মেয়ের স্কুল ১০টা ৫০ মিনিটে ছুটি দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ নেই।’
জান্নাতুল মাওয়া মৌ তাঁর ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘ভূরুঙ্গামারীতে কি নতুন কোনো ‘কুত কুত’ বিদ্যুৎ নীতি চালু হয়েছে? ভূরুঙ্গামারীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে আসলে কী হচ্ছে? দিনে কিছুটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা সত্যিই খুব বিরক্তিকর। সারা দিনের ব্যস্ততার পর সবাই রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে চায়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আশা করি দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ইমরান হোসেন পোস্ট করেন, ‘বর্তমানে লোডশেডিং এমন পর্যায়ে গেছে, যা রীতিমতো উদ্বেগ, হতাশা ও দুঃখজনক। সরকার মন চাইলে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং দিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অতি দ্রুত লোডশেডিং বন্ধ করে জনভোগান্তি লাঘব করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এনামুল হক নামের আরেকজন লেখেন, ‘অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ঘোষণার অপেক্ষা।’
পল্লী বিদ্যুৎ ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি ১০ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ফিডার স্ক্যাডা (বৈদ্যুতিক পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত একটি বিশেষ অটোমেশন সিস্টেম) থাকায় দিনে ও রাতে বেশ কয়েকবার ঢাকা থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।