প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহালের নির্দেশের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আয়োজনে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কলেজ মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় ১৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খালাস দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ সেই রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম দায়রা জজ আদালতে আপিল করে। অপর দিকে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীরা ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, সুধী সমাজের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন ব্যাপারী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শান্ত, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশীদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াছিন, শিক্ষার্থী আদিবা আহসান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইয়াকুব আলী শ্রাবণ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা হলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ-মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীরা যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই বিদ্যালয়ে যোগদান করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।