কিশোরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নিয়ে খোকন মিয়াকে হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম হুমায়ুন মিয়া (৩০)। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার গাইটাল চরপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
আজ শনিবার দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হুমায়ুন মিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের সুন্দিরবন গ্রামে। নিহত খোকন মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের সুন্দীরবন গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন।
খোকন মিয়া ঢাকায় থেকে প্রাইভেট কার চালাতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম মোছা. হোসনা (৩৫)। এই দম্পতির তিন সন্তান আছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মাস দুয়েক আগে সন্তানদের রেখে একই গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে যান হোসনা। প্রতি সপ্তাহে খোকন মিয়া বাড়িতে গেলে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ নভেম্বর রাতে খোকন মিয়া ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলে স্ত্রী হোসনা মোবাইল ফোনে কল করে স্বামীকে তাঁদের বাড়িতে যেতে বলেন। স্ত্রীর ফোন পেয়ে রাত সোয়া ১১টার দিকে খোকন মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে আটকে রেখে তাঁকে মারধর করা হয়। মারধরে খোকন মিয়া গুরুতর আহত হলে তাঁকে পরদিন শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২ ডিসেম্বর খোকন মিয়ার ছোট বোন মোছা. শিউলী আক্তার বাদী হয়ে স্ত্রী হোসনাসহ ১১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
মো. আশরাফুল কবির জানান, এ মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আকাশ মিয়াকে পুলিশ ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আরেক আসামি হুমায়ুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আরেকজন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার আসামি হোসনাসহ বাকিরা পলাতক আছেন। আজ শনিবার আদালতে হুমায়ুন মিয়াকে সোপর্দ করা হবে।