কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের দাবি, গৃহবধূর স্বামী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় এক যুবক ওই গৃহবধূকে ভালোবাসতেন। কিন্তু গৃহবধূ পাত্তা না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কালাইহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের নাম—শাবনূর আক্তার (২৬)। শাবনূর সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কালাইহাটি গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে ও চৌধুরীহাটি গ্রামের শামছুল হক মাস্টারের ছেলে শহীদুলের স্ত্রী। শাবনূর ৭ বছর ও ৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের মা।
আটককৃতরা হলেন—মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামের শামছুল হক মাস্টারের ছেলে ও নিহতের স্বামী শহীদুল ইসলাম (৪০) ও একই ইউনিয়নের কালাইহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে আলামিন (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে শায়ন ও সানভি নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়। দুই সন্তানই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়াশোনা করত। শাবনূর স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শাবনূর বাছুর আনতে ঘর থেকে বাইরে যান। এ সময় তাঁর বুক, ডান হাত ও পাঁজরে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা শাবনূরকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, একই গ্রামের মাদকাসক্ত আলামিন হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। ঘটনার পর আলামিন ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তারা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুড়ি ও এক জোড়া স্যান্ডেল ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করেছে পুলিশ।
এদিকে নিহতের মা দিলোয়ারা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী শহীদ নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে বাড়িতে চলে আসে। গত দুই বছর যাবৎ আমার মেয়ের ও তাঁর দুই সন্তানের কোনো খোঁজ খবর রাখে না। এমনকি ভরণপোষণও দিত না। দুই নাতিকে নিয়ে যখন স্কুলে যেত আমার মেয়ে, তখন তাকে হত্যার হুমকিও দিত শহীদ। আমার মেয়েকে শহীদ ও আলামিন দুজন মিলে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আল আমিন হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলামিনের প্রেমের প্রস্তাবকে পাত্তা না দেওয়ার কারণে শাবনূরকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’