হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

‘ভুয়া হোল্ডিং’ তৈরি করে অতিরিক্ত কর আদায়, অভিযোগ প্রমাণের পরও নেই ব্যবস্থা

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ

পাকুন্দিয়া পৌরসভার তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান। ভুয়া হোল্ডিং তৈরি করে অতিরিক্ত কর ধার্য করার একটি অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পৌরসভার একজন বাসিন্দা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। সেখানেও পৌরসভার গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালীন ভুয়া হোল্ডিং তৈরি করে অতিরিক্ত কর আদায় করলে মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করেন তাঁরা। এতে নির্বাহী কর্মকর্তা, কর নির্ধারক ও কর আদায়কারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর এক চিঠিতে (স্মারক নম্বর: ৪৬.৪১.৪৮০০.০১০.১২.০০২.২৩-২৮২) তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান কিশোরগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ফৌজিয়া খান। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পরদিন ৩ জুন ওই পৌর কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া পৌরসভা থেকে বদলি হয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহারের। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে পৌরসভার গাড়িটি দেদার ব্যবহার করছেন সৈয়দ শফিকুর রহমান।

ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এ এস এম সুমন বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়ায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, তাঁকে এখানে এনে আরও বড় সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার গাড়িটি যেভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন, তা স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকুন্দিয়া পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। জেলা প্রশাসন তদন্ত করে অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে, তারপরও ভালো জায়গায় বদলি করা হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমানের সঙ্গে তিন দিন ধরে যোগাযোগের পরও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া পৌরসভায় থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া হোল্ডিং তৈরিসহ অতিরিক্ত কর আদায়ের একটা অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

জেবুন নাহার শাম্মী আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান।

১৭ বছর পর কিশোরগঞ্জের নগুয়া সরকারি পুকুরে সংস্কারকাজ শুরু

কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন দ্রুত চালুর দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস জারিয়া পর্যন্ত বর্ধিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভৈরবে বর্জ্যে লাগা আগুনে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল বিদ্যুৎ লাইন ও দোকানপাট

চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকার, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

কিশোরগঞ্জে ৪১৫ কেজি পলিথিন জব্দ, জরিমানা

মিঠামইনে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, ভাসমান লাশ নিয়ে রহস্য

স্কুল ফিডিংয়ের দুধে পোকা, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় বাজিতপুর শিক্ষা অফিস

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রায় ৭৫ কোটি টাকা

ক্লাস চলাকালে ছাদ থেকে খসে পড়ল চলন্ত ফ্যান