হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

হাইওয়ে পুলিশ

পুলিশের পোশাকে চাঁদা তোলেন ‘ভাগিনা নাঈম’

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ 

পুলিশের পোশাকে দায়িত্বরত নাঈম হাসান (বাঁয়ে)। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে। চালকদের দাবি, নির্দিষ্ট প্রতীকযুক্ত টোকেন কিনলে মাসজুড়ে আর কোনো ঝামেলা থাকে না। তবে এই টোকেন না থাকলে কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মামলা, রিকুইজিশনসহ নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় বিশেষ করে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. মারগুব তৌহিদকে দায়ী করছেন চালকেরা। তাঁরা জানান, মারগুবের ভাগনে নাঈম হাসান পুলিশের পোশাকে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেন। সড়কে তিনি ‘ভাগিনা নাঈম’ নামে পরিচিত। তাঁর কথা না শুনলে মারধরসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ বলেন, ‘কাজের সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হয়।

তবে কোনো চাঁদাবাজি হয় না।’ ভাগনেকে পুলিশের পোশাক পরানোর বিষয়টি অবশ্য তিনি এড়িয়ে যান।

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহগামী যানবাহনের জন্য ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সড়কের কটিয়াদী-ভৈরব অংশের কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে মাছ, দুই পাখি বা বটগাছ প্রতীকযুক্ত টোকেন দেওয়া হয়। এ জন্য যানবাহনভেদে মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হয়। এই টোকেন থাকলে আর গাড়ি আটকানো হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিএনজিচালক বলেন, মাসে ৫০০ টাকা দিলে আর ঝামেলা নেই। না দিলে কাগজ ঠিক থাকলেও মামলা দেয়। চালকদের দাবি, কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব পর্যন্ত ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সব কাগজ হালনাগাদ করা আছে। তারপরও মাসিক চাঁদা না দিলে রেহাই নেই। আর মামলা হলে গাড়ি ছাড়াতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ পড়ে। আরেক চালক জানান, হাইওয়েতে গাড়ি আটকালে তাঁরা যাঁর মাধ্যমে মাসিক চাঁদা দেন, তাঁকে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিরাপদ সড়ক চাই কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, টোকেন পদ্ধতিতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে সড়ক আরও অনিরাপদ হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

চালকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই সড়কে চলাচল করে। মাসে ৫০০ টাকা নিলে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকেই দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এর বাইরে দু-তিন হাজার পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন থেকে মাসে অন্তত ১ হাজার টাকা নিলে এর মোট পরিমাণ দাঁড়ায় অর্ধকোটি টাকার বেশি। কটিয়াদী ও ভৈরব—দুই থানা মিলিয়ে এটি কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

১৬ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলখানা মোড়সংলগ্ন একটি চেকপোস্টে সরেজমিনে পরিদর্শক মারগুব তৌহিদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা এক তরুণকে দেখা যায়। নাম জানতে চাইলে প্রথমে তিনি নিজেকে আরিয়ান বলে পরিচয় দেন। পরে প্রশ্নের মুখে জানান, তাঁর নাম নাঈম। পরিদর্শক মারগুব তৌহিদ তাঁকে নিজের ভাগনে বলে স্বীকার করেন। বলেন, ‘বাড়িতে দীর্ঘদিন বেকার ছিল। তাই সঙ্গে করে নিয়ে এনেছি।’ তবে কোনো অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘ওসির ভাগনে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে।’ আরেকজন বলেন, ‘নাঈম টাকা তুলে তার মামাকে দেয়। লাকড়ির গাড়ি ৫০০, গাছের গাড়ি ৮০০, বাঁশের গাড়ি ১,৫০০ টাকা।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, পুলিশের পোশাক অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতীক। কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে এই পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি।

হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পুলিশের যেকোনো অনিয়ম নজরে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন বলেন, নতুন যোগ দেওয়ায় টোকেন বা চাঁদা-বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে উত্তীর্ণ, ভাইবা দিতে এসে ৯ পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড

নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল শিশুর

ভৈরবে জুতার সোল কারখানায় আগুন, তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

এবার কিশোরগঞ্জে টিউলিপের হাসি

রমজান উপলক্ষে খামারে প্রতি লিটার দুধ ১০ টাকায় বিক্রি

আসামি নিয়ে থানায় ফেরার পথে সড়কে আহত পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

হাওরের মানুষের মন বড়: শফিকুর রহমান

নতুন সরকারে কিশোরগঞ্জ পেতে পারে দুই মন্ত্রী

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের শরীফুল আলমের ভূমিধস জয়

৭৭ হাজার ভোটে ফজলুর রহমানের বিশাল জয়