কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রাইভেট কারের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় তার যমজ ভাই গুরুতর আহত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তারা দুজনই ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আজ তাদের স্কুলে আইসিটি পরীক্ষা ছিল। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ হুসাইন ও গুরুতর আহত হয়েছে তারই যমজ ভাই মোহাম্মদ হাসান। তারা উপজেলার আদর্শপাড়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা বলছে, হাসান ও হুসাইন সাইকেল চালিয়ে বাড়ি থেকে স্কুলের সামনে পৌঁছার পর রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাদের সাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সাইকেল থেকে সিটকে পড়ে তারা। ঘটনা দেখে আশপাশের সবাই তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। এ সময় প্রাইভেট কার থামিয়ে চালক পালিয়ে যায়। পরে তাদের দুই ভাইকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রের মা জেসমিন রেজা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বুধবার স্কুলে ওদের আইসিটি পরীক্ষা ছিল। সকালে নাশতা শেষে দুই ভাই সাইকেল নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। মোহাম্মদ হুসাইন শারীরিক প্রতিবন্ধী, এ জন্য বড় ভাই মোহাম্মদ হাসানের সাইকেলে চড়ে নিয়মিত স্কুলে যেত সে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে স্কুল থেকে ফোন আসে তারা দুজন অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। এ কথা শুনে আমরা হাসপাতালে আসি। এসে দেখি হুসাইনের নিথর দেহ পড়ে আছে, আর হাসান গুরুতর আহত।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) তাজরিনা তৈয়ব আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমিও এই পথেই হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ঘটনা দেখে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থামিয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। হুসাইন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে, আর গুরুতর আহত হাসানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।