মাত্র দুই মাস আগে স্বামীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই শোক ও বিচারের দাবি বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—স্বামীর ঘাতকদের বিচার দেখে যাওয়ার আগেই একই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সেই স্ত্রী অন্তরাও।
গতকাল বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অন্তরা (২৭)কটিয়াদী বাজারের ব্যবসায়ী মরহুম জিল্লুর রহমানের স্ত্রী এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চর গোহালবাড়িয়া গ্রামের মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর হত্যাকাণ্ডের মামলার কাজ শেষে কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন অন্তরা। পথে আচমিতা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে কটিয়াদী বাজারে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নৃশংসভাবে খুন হন ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান। বর্তমানে মামলাটি কিশোরগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। বিচার পাওয়ার আশাই পরিবারটি যখন দিন গুনছিল, ঠিক তখনই নেমে এলো এই ট্র্যাজেডি।
পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘নিহত অন্তরা পিবিআই কার্যালয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কটিয়াদী হাইওয়ে থানার পরিদর্শক এ বি এম মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তরা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক গাড়ি চিহ্নিত করাসহ মরদেহের ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পরিবার এবং স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।