খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও খানজাহান আলী থানার সাবেক সভাপতি বেগ লিয়াকত আলীকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ফুলবাড়ী গেট বাজার মোড় থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
বেগ লিয়াকত আলীর বাড়ি খানজাহান আলী থানার বাদামতলা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে। তিনি ওই এলাকার প্রভাবশালী ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে বসা বেগ লিয়াকত আলীর জামার কলার ধরে আছেন এক ব্যক্তি। অন্যরা তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের ওপর বেগ লিয়াকতের চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গালিগালাজ করছেন। এ সময় লিয়াকতকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। মধ্য বয়স্ক এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বুড়ো বাপকেও তুই ছাড়িসনি। তাঁকেও মারতে গেছিস।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলেছে, ৫ আগস্টের পর বেগ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে দিঘলিয়া, দৌলতপুর, খানজাহান আলী এবং সাভার থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। গত ১৩ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরদিন তিনি আদালতে জামিন নিতে গেলে পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে আটক করে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে তিনি জামিনে মুক্ত হন। সেই থেকে তিনি বাড়িতেই ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের সময় বেগ লিয়াকত আলী অনেকটা জোর করে ফুলবাড়ী গেট বাজার বণিক সমিতির সভাপতির পদ দখলে রেখেছিলেন। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী, এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ীরাও নির্বাচনের দাবি জানালেও তিনি কান দেননি। এসব কারণে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
জানতে চাইলে নগরীর খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, বেগ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার বেলা ১টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে লিয়াকতকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।